
এখন বাংলাদেশের সাথে সে অর্থে ওয়ানডেতে পারে না শ্রীলঙ্কা। নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ একদিনের ম্যাচেই লঙ্কানদের হারিয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার মাটিতেও লঙ্কানদের হারিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।
কিন্তু এই সাফল্য কি একদিনে এসেছে? আজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট মানচিত্রে যে শক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই জায়গায় কি রাতারাতি আসা সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে আছে অনেক লড়াই-সংগ্রামের কাহিনী। শুরু হয়েছিল না পারার ব্যর্থতা আর গ্লানি দিয়ে।
এই শ্রীলঙ্কার কাছে ৪২ বছর আগে ঘরের মাঠে যে বাংলাদেশ খাবি খেয়েছিল, তা জানা আছে ক’জনার? সবাই জানেন, আজ থেকে ৩২ বছর আগে প্রথমবার বাংলাদেশের মাটিতে হয়েছিল এশিয়া কাপের আসর। ১৯৮৮ সালে সেই উইলস এশিয়া কাপ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল।
কিন্তু তারও প্রায় ১০ বছর আগে যে লঙ্কানরা বাংলাদেশে খেলে গেছেন, তা জানা নেই অনেকেরই। ১৯৭৭-১৯৭৮ মৌসুমে প্রথম বাংলাদেশে খেলতে এসেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল।
ভাবছেন, এখন যেমন ‘এ’ দল, একাডেমি, হাই পারফরমেন্স ইউনিট (এইচপি) কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলতে আসে, লঙ্কানদের তেমন কোন দল বুঝি বাংলাদেশে সফরে এসেছিল! আসলে তা নয়। ‘এ’ দল কিংবা কোন বয়স ভিত্তিক দল নয়, পুরোদস্তুর শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলই ১৯৭৮ সালের জানুয়ারির একদম শুরুতে বাংলাদেশে এসেছিল এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাথে তিনটি তিনদিনের ম্যাচ ও একটি একদিনের ম্যাচে অংশ নিয়েছিল। এর বাইরে তিনটি দুই দিনের ম্যাচও খেলেছিল লঙ্কানরা।
আগেই বলে নেয়া ভাল, তখন বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা দু’দলই আইসিসির সহযোগি সদস্য। পার্থক্য একটাই, বাংলাদেশে আসার ঠিক ৩ বছর আগে (১৯৭৫ সালে) ইংল্যান্ডে যে প্রথম প্রুডেন্সিয়াল বিশ্বকাপের আসর বসেছিল, শ্রীলঙ্কা তাতে অংশ নিয়েছিল।
সেই ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে যখন প্রথম আইসিসি বিশ্বকাপের আসর বসে, শ্রীলঙ্কা ছিল ওই আসরে। কোন ম্যাচ না জিতলেও প্রথমবার বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে গিয়েও বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা, সিধাত ওয়েটিমুন, অনুরা টেনিকুন, রয় ডায়াস আর দুলিপ মেন্ডিসরা ঠিক নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছিলেন।
সেই বিশ্বকাপেরই এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার করা ৩২৮ রানের হিমালয় সমান পুঁজির জবাবে শ্রীলঙ্কা যখন মাত্র ৪ উইকেট খুইয়ে ২৭৬ রান করে বসে তখনই বোঝা যাচ্ছিল এই লঙ্কানরাই হবে ক্রিকেটের নতুন সূর্য্য। এ দলের ভবিষ্যত উজ্জ্বল।
সবার জানা, বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে প্রথম আইসিসি ট্রফি খেলে; কিন্তু মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপের মাঠ মাতালেও লঙ্কানরা কিন্তু তখনো টেস্ট খেলুড়ে দল হয়ে ওঠেনি। শ্রীলঙ্কা টেস্ট স্ট্যাটাস পায় তারও তিন বছর পর, ১৯৮১ সালে। আর ১৯৮২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে বান্দুলা ওয়ার্নাপুরার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের সাথে শ্রীলঙ্কার টেস্ট অভিষেক ঘটে। সেই ম্যাচে লঙ্কানরা পরাজিত হয় ৭ উইকেটে।
নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, তাহলে শ্রীলঙ্কার ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে খেলতে আসার তাৎপর্য্য কি? আসলে ৭০ দশকের একদম শেষ দিকেই শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়ে হয়ে উঠেছিল ক্রিকেটের নতুন সম্ভাবনা। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল লঙ্কান আর জিম্বাবুইয়ানরাই হবেন আগামীর টেস্ট জাতি। ঠিক ওই দুই দলের সমান শক্তি-সামর্থ্য আর ক্রিকেট অবকাঠামো না থাকলেও এর পরপরই ভাবা হয়েছিল বাংলাদেশের কথা।
মূলতঃ বাংলাদেশের শক্তি যাচাই এবং পরবর্তী টেস্ট খেলুড়ে দেশ শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের শক্তি ও সামর্থ্যের পার্থক্য যাচাইয়ের একটা ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে লঙ্কানদের ওই বাংলাদেশ সফর। তবে ওই সফরে লঙ্কানদের দোর্দণ্ড প্রতাপের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। জাতীয় দলের ব্যানারে যে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল, তখনকার টিম বাংলাদেশ- তার সবকটায় লঙ্কানদের কাছে ইনিংসে হেরেছিল রকিবুল হাসানের বাহিনী।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম তিনদিনের ম্যাচে ইনিংস ও ৯ রানে জয়ী হয় শ্রীলঙ্কা। রাজশাহীতে দ্বিতীয় তিন দিনের খেলাতেও ইনিংস ও ৪ রানের হার সঙ্গী ছিল স্বাগতিকদের। আর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ তিনদিনের খেলাতে বান্দুলা ওয়ার্নাপুরার দল জয়ী হয় ইনিংস ও ২৪ রানে।
যশোর আর ফরিদপুরে দুটি দুই দিনের ম্যাচ অমিমাংসিত থাকলে ময়মনসিংহে বিসিবি মধ্যাঞ্চল নামের দলটি দল দুই দিনের খেলাতেও ইনিংসও ৭৬ রানে হেরে যায়। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪২ আর পরের ইনিংসে ৭২ রানে অলআউট হয়েছিল মধ্যাঞ্চল।
এছাড়া ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে একমাত্র ৫০ ওভারের ম্যাচেও পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। ৮৯ রানে অলআউট হয়ে ৯ উইকেটে হেরে যায়। শুধু ফলতো জানা হলো। কেমন ছিল শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের পারফরমেন্স?
তিনটি দুই দিন, সমান সংখ্যাক তিনদিন আর একটি একদিনের (৫০ ওভারে) ম্যাচেই আসলে ব্যর্থতার ঘানি টেনেছেন স্বাগতিক ক্রিকেটাররা। কোন ম্যাচে এক মুহূর্তের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
ওই সাত ম্যাচে বাংলাদেশের একজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করা বহুদুরে, কেউ পঞ্চাশও করতে পারেননি। চল্লিশের ঘরে পৌঁছেছেন হাতে গোনা চার-পাঁচজন। কোন বোলার এক ইনিংসে ৪ উইকেট শিকারও করতে পারেননি। এক ইনিংসে সেরা বোলিং বলতে তিন জনের তিন উইকেট করে পাওয়া।
অফকাটার ইউসুফ বাবু চট্টগ্রামে তিনদিনের আন অফিসিয়াল টেস্টে ৫৯ রানে দখল করেছিলেন ৩ উইকেট। সেটাই ছিল সেরা বোলিং। এছাড়া অপর পেসার তানভির হায়দারও ওই ম্যাচেই ৭৬ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। অপর দুই আনঅফিসিয়াল টেস্টে আর কেউ তিন উইকেট পাননি। পুরো সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপর ৩ উইকেট পাওয়া বোলার ছিলেন আজম। তিনি ফরিদপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের হয়ে দুই দিনের ম্যাচে ৭৩ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট।
একমাত্র চট্টগ্রামে শেষ আনঅফিসিয়াল টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সফরে প্রথম ও শেষ বারের মত অলআউট হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ওই ইনিংসেই বাংলাদেশের দুজন বোলার ইউসুফ বাবু আর তানভির হায়দার সমান তিনটি করে উইকেট পেয়েছিলেন ।
তিন দিনের ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল সৈয়দ আশরাফুল হকের। তিনি চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ তিন দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেছিলেন। ওই হোম সিরিজে তিনটি তিনদিনের ম্যাচ, তিনটি দুই দিনের আর একটি একদিনের সীমিত ওভারের ম্যাচে সৈয়দ আশরাফুল হকের ওই ইনিংসটিই ছিল সর্বোচ্চ। এছাড়া চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে শেষ তিনদিনের ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও আশরাফুলের ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছিল ৪২ রান।
প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেছিলেন আরেক অলরাউন্ডার মাইনুল হক মাইনু। বলার অপেক্ষা রাখে না, শ্রীলঙ্কার ওই সফরে বাংলাদেশ জাতীয় দল শুধু ৩টি তিনদিনের আন অফিসিয়াল টেস্ট আর একটি একদিনের ম্যাচে অংশ নিয়েছিল রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে। আর তিনটি দুই দিনের ম্যাচে সফরকারি লঙ্কানদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল তখনকার ‘এ’ দল । তবে তিনটি ভিন্ন নামে, সেন্ট্রাল জোন (মধ্যঞ্চল), সাউথ জোন (দক্ষিনাঞ্চল) আর বিসিবি সভাপতি একাদশ নামে।
জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি রকিবুল হাসান ময়মনসিংহে মধ্যাঞ্চলের অধিনায়কও ছিলেন। এছাড়া যশোরে দক্ষিনাঞ্চলের ক্যাপ্টেন ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল হক। আর ফরিদপুরে বিসিবি একাদশের নেতৃত্বে ছিলেন এএসএম ফারুক।

শ্রীলঙ্কার ওই দলটির টেস্ট খেলার সামর্থ্য ছিল : রকিবুল হাসান
শ্রীলঙ্কার ওই সফরে যিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন, সেই রকিবুল হাসান এমন একপেশে সিরিজ আর নিজ দলের না পারাকে অস্বাভাবিক ব্যর্থতা মানতে নারাজ। তার অনুভব, শ্রীলঙ্কার ওই দলটি দখনকার সময় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ আর শক্তিশালী দল ছিল। সেই দলের সাথে কুলিয়ে ওঠার সামর্থ্য তখন ছিল না বাংলাদেশের।
জাগো নিউজের সাথে সেই সিরিজ নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাই রকিবুল হাসানের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘শ্রীলঙ্কার ওই দলটি ছিল অসাধারণ। অনুরা টেনেকুনের ক্যাপ্টেন্সিতে বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা, সিধাত ওয়েটেমুনি, রয় ডায়াস, দুলিপ মেন্ডিসের মত তুখোড় সব ব্যাটসম্যান তখন ফর্মের তুঙ্গে। বলতে দ্বিধা নেই ওই লঙ্কান দলটি ৭০’র শেষ দিকে আমাদের জন্য আসলে বেশি শক্তিশলি দল ছিল। আমাদের জন্য সেই দলটি আসলে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষই ছিল।
আমরা তাদের সাথে শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারিনি। আমার যতদুর মনে পড়ে, আমরা তিন ম্যাচের আন অফিসিয়াল টেস্টের সব কটায় হেরে গিয়েছিলাম। এর মনে হয় দুটিতে ইনিংসে (আসলে সব কটায় ইনিংস পরাজয়) হেরেছিলাম। এখনো মনে আছে তিনটি আনঅফিসিয়াল ম্যাচেই অসাধারণ খেলে শতক উপহার দিয়েছিলেন বান্দুলা ওয়ার্নাপুরা। দুলিপ মেন্ডিসও শতরান করেছিলেন।’
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ বরেণ্য ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ রকিবুল হাসানের মূল্যায়ন, শ্রীলঙ্কার ওই দলটিরই টেস্ট খেলার সব রকম যোগ্যতা ছিল। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি শ্রীলঙ্কার ওই দলটির তখনই টেস্ট খেলার পুরো যোগ্যতা ছিল। তখনই লঙ্কানরা একদম সুগঠিত। ওয়েল ব্যালেন্সড টিম। ব্যাটিং আর বোলিংটা খুব পরিপাটি, সাজানো গোছানো আর সমৃদ্ধ ছিল।
কিন্তু তখন শুধু ভাল পারফরমেন্স আর মাঠ, পিচ ও অবাকাঠামোই শেষ কথা ছিল না। ওই সময় আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সব সদস্য দেশ হতে হলে দরকার ছিল সব টেস্ট দেশের অকুণ্ঠ সমর্থন। যা শ্রীলঙ্কা পায়নি। অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ড না করে দিল।
তাদের তখন ‘ভেটো’ পাওয়ার ছিল খুব বেশি। অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের ভেটো পাওয়ার তখন উঠে যায়নি। শ্রীলঙ্কার এই দল কিন্তু ৭৫-এর বিশ্বকাপেই মাঠ মাতানো দল। আমাদের সাথে বিশ্বকাপের প্রায় একই স্কোয়াড নিয়ে খেলতে এসেছিল তারা। সেই দলের ব্যাটিং ছিল দুর্দান্ত। উইকেটরক্ষক রঞ্জিত ফার্নান্ডো (এখন টিভি ধারাভাষ্যকার), অফস্পিনার কাল্লুপেরুমা, পেসার টনি ওপাথা, বাঁ-হাতি স্পিনার অজিত ডি সিলভা-জগন্নাথনের গড়া দারুণ ধারালো বোলিংও ছিল। সব মিলে শ্রীলঙ্কা তখন একঝাঁক মেধাবি ও ইনফর্ম পারফরমারে সাজনো দারুন সুগঠিত, ব্যালেন্সড দল।’
নিজ দলের পারফরমেন্স কথা বলতে গিয়ে রকিবুলের ব্যাখ্যা, ‘আমাদের পারফরমেন্স ভাল ছিল না একদমই। তিন ম্যাচই যখন ইনিংসে হেরেছি, তখন আর কি পারফরমেন্স হবে, বলুন? তবে সেই দলের সাথে একপেশে হারের পর আমাদের ক্ষতি হয়নি। বরং আমরা নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছিলাম। আর সবচেয়ে বড় কথা নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালি দলের সাথে খেলাতে আমাদের ক্ষতি হয়নি।
বরং আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কার কাছে চরমভাবে পর্যুদস্ত হবার পরও ওই হোম সিরিজ আমদের ক্ষতির বদলে উপকারের খোরাক হয়ে দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা আরও ভাল খেলতে শুরু করি। তার প্রমাণ ছিল শ্রীলঙ্কা চলে যাবার কয়েক মাস পর এসেছিল ভারতের ডেকান ব্লুজ। ভারতের সাবেক অধিনায়ক অজিত ওয়াদেকারের নেতৃত্বে খেলতে আসা সেই দলে বাঁ-হাতি স্পিনার নারসিমারাও, এস কৃষ্ণর সাজানো দলের বিপক্ষে আমরা এক ইনিংস ৩০০ প্লাস রান করে তিনদিনের ম্যাচ ড্র করেছিলাম।
মোটকথা, আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কার ওই দলটি সন্দেহাতীতভাবেই আমাদের চেয়ে ঢের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ছিল। নিজেদের চেয়ে অনেক বেটার দলের বিপক্ষে ওই সিরিজটি আমাদের ভাল খেলতে শক্তি ও সাহস জোগালো। ধীরে ধীরে আমাদের পারফরমেন্সের গ্রাফ ওপরের দিকে উঠতে থাকলো। প্রথমবার ৭৯ সালে গিয়ে না পারলেও ৮২’র আইসিসি ট্রফিতে আমরা সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিলাম।’
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সিরিজের স্কোর
ঢাকায় প্রথম তিনদিনের ম্যাচ (১৩-১৫ জানুয়ারি)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ১৭৪/১০ (শফিকুল হক হীরা ৪০, ইউসুফ বাবু ৩৭, ওমর খালেদ রুমি ১৯, রকিবুল হাসান ১৮, এসএম ফারুক ১৫, সামিউর রহমান ১২*, আহমেদ ইকবাল বাচ্চু ৬, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম ৬, মাইনুল হক মাইনু ৪, আশরাফুল হক ২, নজরুল কাদের লিন্টু ০; এডি সিলভা ৬/৬৯)।
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৩৪৭/৩ (ওয়ার্নাপুরা ১১৬, টেনেকুন ১০০, মেন্ডিস ৭০*, রয় ডায়াস ৩৭*; আশরাফুল হক ২/৮৪, সামিউর রহমান সামি ১/৪৯)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১৬১/১০ (ইউসুফ বাবু ৪১*, আশরাফুল হক ২৮, ওমর খালেদ রুমি ২১, রকিবুল হাসান ১৭, আহমেদ ইকবাল বাচ্চু ১৬, এসএম ফারুক ৯, শফিকুল হক হীরা ৫, মাইনুল হক মাইনু ৫, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম ১, সামিউর রহমান ০, নজরুল কাদের লিন্টু ০)
ফল : শ্রীলঙ্কা ইনিংস ও ৯ রানে জয়ী।
রাজশাহীতে দ্বিতীয় তিনদিনের ম্যাচ (১৯-২১ জানুয়ারি)
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস : ৩০৭/১ (ওয়ার্নাপুরা ১৬৭*, টেনেকুন ৭২*, ফার্নান্দো ৫৭; আশরাফুল হক ১/৯৮)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৪৩/১০ (রকিবুল ২৭, আহমেদ ইকবাল বাচ্চু ২১, দিপু রায় চৌধুরী ১৮, মাইনুল হক মাইনু ১৭; রানা সিংহে ৫/১১, টনি ওপাথা ৩/২৪)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১৬১/১০ (ওমর খালেদ রুমি ২৮, আহমেদ ইকবাল বাচ্চু ২৭, আশরাফুল হক ২০, ইউসুফ বাবু ১; ইল্লেপেরুমা ৪/৪৮, জগন্নাথন ৪/২৫)
ফল : শ্রীলঙ্কা ইনিংস ও ৩ রানে জয়ী।
চট্টগ্রামে শেষ তিনদিনের ম্যাচ (২৪-২৬ জানুয়ারি)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৭৬/১০ (মাইনুল হক মাইনু ৪৩, আশরাফুল হক ৪২, রকিবুল হাসান ২১, আহমেদ ইকবাল বাচ্চু ১৮; গুনাতিলকে ৬/৩৮)
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস : ৩২৭/১০ (ওয়ার্নাপুরা ১০৫, কাল্লুপেরুমা ৪৮, টেনেকুন ৪৪, রয় ডায়াস ৩৭; ইউসুফ বাবু ৩/৫৯, তানভির হায়দার ৩/৭৬, আশরাফুল হক ২/৭০)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১২৭/১০ (আশরাফুল হক ৪৯, ওমর খালেদ রুমি ৩৫; গুনাতিলকে ৩/৪১, ওয়ার্নাপুরা ৩/২২)
ফল : শ্রীলঙ্কা ইনিংস ও ২৪ রানে জয়ী।
ঢাকায় একমাত্র ওয়ানডে (১৬ জানুয়ারী)
বাংলাদেশ : ৮৮/১০ (ওমর খালেদ রুমি ২৩, রকিবুল হাসান ২০, মাইনুল হক মাইনু ১৪, আশরাফুল হক ৯, ইউসুফ বাবু ২, এ এস এম ফারুক ২, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম ০, শফিকুল হক হীরা ০, তানভির হায়দার ০, আহমেদ ইকবাল বাচ্চু ০, দৌলতুজ্জামান ০*)
শ্রীলঙ্কা : ৮৯/১ (রয় ডায়াস ৫২*, ওয়েটেমুনি ৩৭*)
ফল : শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে জয়ী।
এআরবি/আইএইচএস/এসএএস/পিআর

No comments:
Post a Comment