সেমিফাইনালে স্বাগত
২০২৬ আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। এর আধা ঘণ্টা আগে হবে টস।
মার্করাম সম্পর্কে জানতে চাইলে পড়ুন
শক্তিতে এগিয়ে কারা
এইডেন মার্করামের নেতৃত্বে অজেয় হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল। জিতেছে ৭ ম্যাচের সবকটিতে (সুপার ওভারে পাওয়া জয়সহ)।
দীর্ঘদিনের ‘চোকার্স’ অপবাদ ঝেড়ে ফেলে এবার বিশ্বকাপ জিততে আত্মবিশ্বাসী দলটি। গতবারের রানার্সআপরা সুপার এইটে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, কেন তারা এবার শিরোপার দাবিদার।
অন্যদিকে কিউইরা সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তানের চেয়ে ভালো নেট রান রেটের সৌজন্যে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারলেও, কলকাতার মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া মিচেল স্যান্টনারের দল।
টস
কলকাতায় টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।
নিউজিল্যান্ড দলে পরিবর্তন একটি। লেগ স্পিনার ইশ সোধির জায়গায় দলে ফিরেছেন জিমি নিশাম।
দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ফিরেছেন কাগিসো রাবাদা, মার্কো ইয়ানসেন ও কেশব মহারাজ।
শুরুতেই চাপে দক্ষিণ আফ্রিকা
ডি ককের পর ফিরলেন রিকেলটনও!
দুজনকেই ফিরিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ডানহাতি স্পিনার কোল ম্যাকনকি। ডি কক করেছেন ১০ রান, রিকেলটন তো আউট হয়েছেন প্রথম বলেই।
ম্যাকনকির জোড়া আঘাত
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪ ওভারে ২৮/২
কোল ম্যাকনকি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টি–টুয়েন্টি খেলেছেন মাত্র ১৫টি। বিশ্বকাপ খেলছেন প্রথমবারের মতো। তবে অভিজ্ঞতায় ঘাটতি নেই তাঁর।
সব মিলিয়ে ১৩৬ টি–টুয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা আছে ম্যাকনকির। তা কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি দুই ব্যাটসম্যান ডি কক ও রিকেলটনকে ফিরিয়েছেন তিনি।
ডি ককের দুর্দশা
কেমন গেল পাওয়ার প্লে
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬ ওভারে ৪৮/২
দ্বিতীয় ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেই ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে দলটি। পাওয়ার প্লেতে সেই অর্থে কোনো ঝুঁকি না নিয়েই রান তুলেছে ৪৮।
মার্করাম ইনিংসের চতুর্থ ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে জীবন পেয়েছেন। রাচিন রবীন্দ্রর কল্যাণে ৩ রানে জীবন পাওয়া মার্করাম এখন ১৬ রানে অপরাজিত।
সেই রবীন্দ্রের বলেই মার্করাম আউট
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৮ ওভারে ৫৭/৩
মার্করাম তখন ৩ রানে ব্যাটিং করছেন। ফার্গুসনের বলে শর্ট মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ ফেলেন রবীন্দ্র। সেই মার্করামকে বল হাতে নিজেই ফিরিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। মার্করাম বড় ইনিংসও খেলতে পারেননি, আউট হয়েছেন ২০ বলে ১৮ রান করে।
এবার আউট মিলার
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১০ ওভারে ৭৭/৪
আবার রবীন্দ্র!
এবার আউট করলেন মিলারকে। দশম ওভারের শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিচেলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন মিলার। একই ওভারের দ্বিতীয় বলেও ক্যাচ দিয়েছিলেন মিলার। সেটি গ্লেন ফিলিপস নিতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ভরসা এখন ডেভাল্ড ব্রেভিস। ২৫ বলে ৩৪ রানে ব্যাটিং করছেন তিনি।
মিলারের পর আউট ব্রেভিস
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১০.২ ওভারে ৭৭/৫
বড় বিপদে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৪ রানে নিশামের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়েছেন ব্রেভিস। তিনিই ছিলেন একমাত্র সেট হওয়া ব্যাটসম্যান।
দক্ষিণ আফ্রিকার ১০০
১৩. ৫ ওভারে ১০০ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা আজই সবচেয়ে ধীরগতিতে ১০০ রান তুলেছে।
কত রান তুলতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা
১৬ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৫ উইকেটে ১১৩। শেষ ৪ ওভারে কত রান তুলতে পারবে তারা?
স্টাবস ও ইয়ানসেন দুজনেই খেলছেন ওয়ানডে মেজাজে। না খেলেও উপায় নেই, এগারোতম ওভারেই পঞ্চম উইকেট হারিয়েছিল দলটি।
ইয়ানসেন + স্টাবস
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৮ ওভারে ১৫০/৫
হাত খুলেছেন ইয়ানসেন ও স্টাবস। ইনিংসের ১৭তম ওভার থেকে এসেছে ১৫ রান। ১৮তম ওভার থেকে এসেছে ২২ রান। ৪০ রানে অপরাজিত ইয়ানসেন, স্টাবস ২৯ রানে।
ইয়ানসেনের ফিফটি
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯ ওভারে ১৬৩/৬
টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি পেলেন ইয়ানসেন। ২৭ বলের ফিফটিতে দলকে ভালো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন স্টাবস, ২৯ রান করে ফার্গুসনের বলে আউট হয়েছেন তিনি।
যা হওয়ার সেটাও হলো না। শেষ ওভার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা করতে পেরেছে ৬ রান। সব মিলিয়ে দলটি তুলেছে ১৬৯ রান। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারানো বিবেচনায় নিলে খারাপ সংগ্রহ গড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে ১৮তম ওভারে ২২, ১৯তম ওভারে ১৩ রান নেওয়ার পর শেষ ওভারে বড় কিছু করার প্রত্যাশাই ছিল তাদের। তবে হেনরির করা এই ওভার থেকে এসেছে মাত্র ৬ রান, যা দলটাকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে। কারণ কলকাতার এই উইকেটে রান তাড়া করাটা কিছুটা সহজ। সেই হিসাবে বল হাতে বেশ ভালোই করেছে নিউজিল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৯/৮ (ইয়ানসেন ৫৫*, ব্রেভিস ৩৪, স্টাবস ২৯; হেনরি ২/৩৪, রবীন্দ্র ২/২৯, কোল ম্যাকনকি ২/৯)
শুরুতেই ঝড়
নিউজিল্যান্ড: ৪ ওভারে ৪৮/০
কিউই দুই ওপেনার পাওয়ার প্লেতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। চার ওভারে চার হয়েছে ৪টা, ছক্কা ৩টি। ৮ বলে ২০ রান করেছেন ফিন অ্যালেন, ১৬ বলে ২৮ রান করেছেন টিম সাইফার্ট।
পাওয়ার প্লে শেষে নিউজিল্যান্ড ৮৪/০
টিম সাইফার্ট না ফিন অ্যালেন, কে বেশি ভয়ংকর?
দক্ষিণ আফ্রিকা এটাই ভাবতে পারে। কারণ পাওয়ার প্লেতে যে যখন স্ট্রাইকে গেছেন , দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দিয়েছেন। ২১ বলে ৪১ রানে অপরাজিত সাইফার্ট, ১৫ বলে ৪৩ রানে ফিন অ্যালেন।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অ্যালেন নিয়েছেন ২২ রান। ওভারের শেষ বলটি ছাড়া বাউন্ডারি হয়েছে প্রতিটি বলেই।
১১ রানে জীবন পেয়েছিলেন সাইফার্ট।
দ্বিতীয় সেরা
সাইফার্টের ফিফটি
২৮ বলে ফিফটি করলেন সাইফার্ট। এবারের বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় ফিফটি।
১৯ বলে অ্যালেনের ফিফটি
অসাধারণ, সঙ্গে ভয়ংকরও। মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করেছেন ফিন অ্যালেন। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটাই দ্রুততম ফিফটি। এবারের বিশ্বকাপে এটি যৌথভাবে দ্রুততম।
বোল্ড...
নিউজিল্যান্ড: ৯.২ ওভারে ১১৭/১
৩৩ বলে ৫৮ রান করে বোল্ড হলেন সাইফার্ট। রাবাদা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্রেকথ্রু এনে দিলেন। ভাঙল ১১৭ রানের জুটি।
অ্যালেন স্পেশাল
ফিন অ্যালেন পারলেন। আসলেই পারতেই হতো। নইলে এমন একটা ইনিংসের সমাপ্তি ঠিকঠাকভাবে হতো না।
নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে রান লাগত ১, তখন অ্যালেনের সেঞ্চুরিতে লাগে ৪ রান। ইয়ানসেনের বলে চার মেরে সেঞ্চুরি করেছেন এই ওপেনার। মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের, ৪৭ বলে ২০১৬ সালে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
অ্যালেনের সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৭০ রানের দেওয়া লক্ষ্য ১২.৫ ওভারেই তাড়া করেছে নিউজিল্যান্ড। ৫৮ রান করেছেন সাইফার্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৯/৮ (ইয়ানসেন ৫৫*, ব্রেভিস ৩৪, স্টাবস ২৯; হেনরি ২/৩৪, রবীন্দ্র ২/২৯, কোল ম্যাকনকি ২/ ৯)। নিউজিল্যান্ড: ১২.৫ ওভারে ১৭৩/১ (অ্যালেন ১০০*, সাইফার্ট ৫৮; রাবাদা ১/২৮) ফল: নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: ফিন অ্যালেন

No comments:
Post a Comment