সুপার এইট, সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও ‘স্যামসন–শো’ - অজানা ১০১
,

ব্রেকিং

Post Top Ad

PropellerAdsPropellerAds

Monday, March 09, 2026

সুপার এইট, সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও ‘স্যামসন–শো’


নাহ্, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের একটা ভবিষ্যদ্বাণীও সত্যি হলো না!

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সাবেক এই ভারতীয় স্পিনার বলেছিলেন, এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত তিনটি সেঞ্চুরি করবেন সঞ্জু স্যামসন। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। স্যামসনের একটাও সেঞ্চুরি নেই!

অশ্বিনের কি মন খারাপ? মনে হয় না। স্যামসন সেঞ্চুরি করেননি, ‘প্রায় সেঞ্চুরি’ তো করেছেন তিনটি। সেই তিনটিও টানা তিন ম্যাচে! সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের বাঁচা–মরার ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৯। দুটি ইনিংসই ম্যাচ জেতানো। সেই দুই ইনিংসের পর অশ্বিন হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘সমস্যা নেই, ফাইনালে সে ঠিকই সেঞ্চুরি করবে।’

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে সেটিও হলো না। স্যামসন আউট হয়ে গেলেন ৪৬ বলে ৮৯ রান করে। আগে ব্যাটিং করে ভারত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান করে ফেলার পর সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে একটি দলের নামই আসছিল। সেটিই সত্যি হলো। অশ্বিন মন খারাপ করবেন কেন!
অথচ বিশ্বকাপের শুরুতে ভারতের একাদশেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না স্যামসন!

অসাধারণ কিছু শট খেলেন স্যামসন

নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম সুযোগ পেয়ে ২২ রানে আউট হলেন, এরপর আবার বেঞ্চে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নেমে করলেন মাত্র ২৪। তখন ভারতের ভরসা ছিলেন ঈশান কিষান ও অভিষেক শর্মা। কে জানত, সেই স্যামসনই ভারতকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে তোলার পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে একাদশের বাইরে থাকা স্যামসনই সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ টানা তিন ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার!

অবশ্য ফাইনালের আগেই স্যামসন তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা এত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যে এই ম্যাচে এর চেয়ে কম কিছু হলে তাঁকে ‘ব্যর্থ’ই বলতে হতো। ভারতীয় ওপেনার সেটা বলার কোনো সুযোগই রাখলেন না। ফাইনালে ৩৩ বলের ফিফটি তাঁকে বসিয়ে দিয়েছে এক অভিজাত তালিকায়। ২০০৯ সালে শহীদ আফ্রিদি ও ২০১৪ সালে বিরাট কোহলির পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের একই আসরের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করার কীর্তি এখন স্যামসনেরও।

আজ ভারতের ব্যাটিং তাণ্ডবটা অবশ্য স্যামসন শুরু করেননি, করেছিলেন এত দিন অফ ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মা। বিশ্বকাপ শুরু করেছেন টানা তিন ম্যাচে শূন্য দিয়ে। একটি ফিফটি করলেও সেটি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটের এক নম্বর ব্যাটসম্যান ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। টুর্নামেন্টের আগের ৭ ম্যাচে মোট রান মাত্র ৮৯, ফিফটির ইনিংসটা বাদ দিলে বাকি ৬ ইনিংসে রান যোগ করলে হয় মাত্র ৩৪।

স্যামসন আউট হয়ে ফেরার পথে তাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান দর্শক

সেই অভিষেক আজ ফিরলেন চেনা খুনে মেজাজে। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে গড়ে ফেললেন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড, যা এই টুর্নামেন্টেও দ্রুততম ফিফটি। অভিষেক আউট হওয়ার আগে স্যামসনের সঙ্গে গড়েছেন মাত্র ৪৩ বলে ৯৮ রানের বিধ্বংসী এক উদ্বোধনী জুটি। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনাল ম্যাচে এটিই প্রথম পঞ্চাশোর্ধ্ব ওপেনিং জুটি।

অভিষেক যখন ওপাশ থেকে তলোয়ার চালাচ্ছিলেন, সঞ্জু তখন তুলনায় বেশ শান্ত। দুজনের ৯৮ রানের জুটিতে স্যামসনের রান ছিল ২২ বলে মাত্র ৩৮! তবে ২১ বলে ৫২ রান করে অভিষেক আউট হওয়ার পর সঞ্জু নিলেন নিউজিল্যান্ড বোলারদের কচুকাটা করার দায়িত্ব। ইনিংসের ১৬তম ওভারে যখন নিশামের বলে আউট হলেন, ততক্ষণে নামের পাশে ৫টি চার আর ৮টি বিশাল ছক্কা। এই টুর্নামেন্টে মোট ২৪টি ছক্কা মেরেছেন সঞ্জু, যা এক আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডও।

তবে এত সব রেকর্ড নয়, স্যামসনের চাওয়া ছিল নিশ্চয়ই একটা—ফাইনালে তাঁর এই ইনিংসটা যেন ভারতকে বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেয়। সতীর্থ বোলাররা নিউজিল্যান্ডকে ১৪৯ রানে অলআউট করে দেওয়ায় সেই ট্রফি তো পেয়েছেনই, সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটাও এসেছে বাড়তি পাওয়া হিসেবে।

No comments:

Post a Comment