শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন - অজানা ১০১
,

ব্রেকিং

Post Top Ad

PropellerAdsPropellerAds

Thursday, April 09, 2026

শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন


শজনে ও লাজনা, নাম যেমন কাছাকাছি, দেখতেও প্রায় একই রকম। লাজনা মূলত শজনেরই একটি আধুনিক জাত। তবে দেখতে অনেকটা একরকম মনে হলেও এদের গঠন, ফুল, ফলন, গাছের আকার, আকৃতি এবং চাষপদ্ধতিতে আছে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য।

উদ্ভিদবিদ ও গবেষক জিনিয়া নাসরিন বলেন, ‘শজনেকে যেমন কোথাও শজিনা বা মরিঙ্গা হিসেবে ডাকা হয়, অঞ্চলভেদে লাজনাকেও রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা বলে চেনেন কেউ কেউ। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এদের পার্থক্য আছে।’

প্রধান পার্থক্যগুলো

গাছের উচ্চতা ও গঠনগত পার্থক্য

শজনে গাছ উঁচু হয় (বায়ে) আর লাজনার গাছ খাটো এবং ঝোপালো (ডানে)

শজনে: দেশি শজনেগাছ সোজা ও লম্বা হয়, যা প্রায় ১০-১২ মিটার বা তারও বেশি উঁচু হতে পারে। এর ডালপালাও ওপরের দিকে বিস্তৃত হতে থাকে।

লাজনা: এটি মূলত একটি ঝোপালো বা বামন প্রজাতির গাছ। এর উচ্চতা সাধারণত ৪-৬ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং ফল সংগ্রহ করা অনেক সহজ।

কাণ্ড ও ডালপালার বৈশিষ্ট্য

শজনে: শজনের কাণ্ড শক্ত, বাকল বা ছাল কিছুটা মসৃণ ও পাতলা হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি বেশ মজবুত কাষ্ঠলগাছে পরিণত হয়। শজনের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই নতুন গাছ জন্মে। শজনের চাষ হয় সাধারণত ডাল রোপণের মাধ্যমে।

লাজনা: লাজনার কাণ্ড কিছুটা নরম ও মোটা হয়। খুব দ্রুত বাড়ে কিন্তু সাধারণত শজনের মতো অতটা শক্তপোক্ত হয় না। শজনের মতো লাজনাগাছও ডাল থেকে চারা করা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বীজ থেকে চাষ করা হয় লাজনা।

শজনের ফুল আকারে লাজনের চেয়ে কিছুটা বড় হয়। ছবিতে দুই ধরনের ফুলই দেখা যাচ্ছে

ফুল ও ফলনের সময়

শজনে: শজনে মৌসুমি ফলনের গাছ। বছরে একবার (বসন্তের শেষ দিকে) ফুল আসে এবং একবারই ফল (ডাঁটা) দেয়। ফুলের রং সাদাটে বা অফ হোয়াইট। গাছে ফুল আসার সময় সব পাতা ঝরে যায়। ফুল থেকে ফল হয়েও তা পাতাশূন্য গাছেই ঝুলতে থাকে।  

লাজনা: বারোমাসি জাত হিসেবে পরিচিত। বছরে কমপক্ষে দুইবার (ক্ষেত্রবিশেষে সারা বছর) ফুল ও ফল দেয়। লাজনাগাছের ফুল সাজনার ফুলের চেয়ে আকারে ছোট হয়। এর রং গাঢ় ঘিয়ে।

লাজনা ফুলের পাপড়িতে লাল রঙের দাগ দেখা যায়, যা শজনের ফুলে থাকে না। ফুল এলেও লাজনাগাছের পাতা ঝরে না বললেই চলে। গাছে সারা বছরই পাতার দেখা পাওয়া যায়।

লাজনা রোপণের মাত্র ৬-৮ মাসের মধ্যেই এতে ফলন আসতে শুরু করে। যেখানে শজনে গাছ রোপণের পর ২ বছরের মতো সময় লাগে ফলন আসতে।

শজনে লম্বায় বেশি বড় হয়, খোসাও পাতলা থাকে

ডাঁটার স্বাদ ও আকার

শজনে: এর ডাঁটা কিছুটা চিকন, পাতলা এবং লম্বায় এক ফুটেরও বেশি হয়। শজনের ডাঁটা অনেক বেশি আঁশযুক্ত ও সুস্বাদু। ডাঁটা শুরু থেকে পোক্ত হওয়া পর্যন্ত একদম সবুজ সতেজ থাকে। ডাঁটাও হয় সোজা গড়নের।

লাজনে কিছুটা মোটা আর খাটো আকারের হয়ে থাকে

লাজনা: লাজনার ডাঁটাগুলো বেশ খাটো এবং মাংসল হয়। অনেকের মতে, শজনের তুলনায় লাজনা কিছুটা কম সুস্বাদু। কখনো কখনো লাজনা কিছুটা তেতো স্বাদ টের পাওয়া যায়।

ডাঁটার রং কিছুটা ধূসর–সবুজ, তুলনামূলক মোটা আর হালকা বাঁকা গড়নের। ডাঁটার ভেতরের অংশ নরম হলেও বাইরের চামড়া বেশ শক্ত হয়।

তবে দুটিরই ঔষধি গুণ অনেক। বসন্তের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখে শজনে ও লাজনা।

No comments:

Post a Comment