সিডনিতে গান–নাচে মুখর আয়োজন - অজানা ১০১
,

ব্রেকিং

Post Top Ad

PropellerAdsPropellerAds

Wednesday, April 15, 2026

সিডনিতে গান–নাচে মুখর আয়োজন


অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে জমে উঠল বর্ণিল বৈশাখী মেলা। শহরের ওয়ালি পার্কে গাঙচিল মিউজিকের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব যেন এক দিনের জন্য তুলে আনল বাংলাদেশের উৎসবমুখর আবহ। সংস্কৃতি, সংগীত আর শিকড়ের টানে সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন শত শত প্রবাসী বাঙালি।

সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। বিকেলে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—গান, কবিতা আর নৃত্যের ধারাবাহিক আয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো; তাদের পরিবেশনা মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের।

মঞ্চে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয় ব্যান্ড ‘স্প্ল্যাশ’ ও ‘ক্রিস্টি’। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা পুরো মেলায় এনে দেয় ভিন্ন আবহ, যা দর্শকদের ধরে রাখে দীর্ঘ সময়। সংগীত, আবৃত্তি আর নৃত্যের মেলবন্ধনে বৈশাখী এই আয়োজন হয়ে ওঠে এক পরিপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসব।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে মেলায় সহযোগিতা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। এতে যোগ হয় আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা ও সম্মাননা পর্বের আলাদা মাত্রা।

বর্ণিল বৈশাখী মেলায় শিল্পীর পরিবেশনা

মেলার মাঠজুড়ে ছিল দেশীয় পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল। কেনাকাটা আর আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। প্রবাসী বাংলাদেশি এনাম আহমেদ বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে থেকেও এমন উৎসবে মনে হয় যেন দেশেই আছি। ছোটরা যখন পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরে ঘোরে, তখন বোঝা যায়—প্রবাসেও আমাদের শিকড় কতটা শক্ত।’

মেলার মাঠজুড়ে ছিল দেশীয় পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল

মেলার অন্যতম আয়োজক টাবু সঞ্জয় জানান, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতিকে পরিচিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কেনাকাটা আর আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ

অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাঙালির বসবাস। সিডনি, মেলবোর্নসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবছরই এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্‌যাপিত হয় বাংলা নববর্ষ। তবে ওয়ালি পার্কের এই বৈশাখী মেলা প্রমাণ করল—প্রবাসেও বাংলা সংস্কৃতির টান এতটুকু ম্লান হয়নি; বরং গান, নাচ আর উৎসবের ভেতর দিয়েই তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নতুন করে।

No comments:

Post a Comment