স্বীকৃতির মঞ্চে তারার মেলা - অজানা ১০১
,

ব্রেকিং

Post Top Ad

PropellerAdsPropellerAds

Friday, April 10, 2026

স্বীকৃতির মঞ্চে তারার মেলা


বগুড়া শহরে আজ সন্ধ্যায় নেমেছিল এক অন্য রকম উৎসব। গানের সুর, আলো আর তারকার উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর। ‘মমো ইন’-এর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বসে ২০ তম ‘টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’—যেখানে এক মঞ্চে মিলিত হন দেশের সংগীতজগতের নানা প্রজন্মের নক্ষত্ররা। খুরশীদ আলম, রফিকুল আলম, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন থেকে শুরু করে এ প্রজন্মের শিল্পী মাহতিম শাকিব, এনজেল নূরের উপস্থিতিতে জমে ওঠে আয়োজন। স্বীকৃতির আয়োজন পরিণত হয় উৎসবে।

২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজন দুই দশক পেরিয়ে এবার আরও বড় পরিসরে হাজির হয় উত্তরবঙ্গে। ঢাকার বাইরে এমন বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই বগুড়া শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ—ব্যান্ড পার্টির বাজনা, রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন আর তারকাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বিকেল গড়াতেই ভেন্যুতে ভিড় বাড়ে, সন্ধ্যা নামতেই সবুজ মাঠের আলোঝলমলে মঞ্চে শুরু হয় জমকালো আয়োজন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে অনুষ্ঠানের। প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’ ও ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ শুরুতেই তৈরি করে আবেগঘন পরিবেশ।
এরপর মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন,ফরিদুর রেজা সাগর, এবং হোসনে আরা বেগম প্রমুখ। বক্তারা এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। আরো উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস এর উপদেষ্টা মওদুদ হোসেন, অন্য প্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত মুকিত মজুমদার প্রমুখ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে অনুষ্ঠানের

আজীবন সম্মাননার জন্য জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপার নাম ঘোষণা করেন আফসানা মিমি। তুমুল করতালির মধ্যে কনকচাঁপাকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন আয়োজক ও অতিথিরা। তাঁর শংসাপত্র পাঠ করেন শাইখ সিরাজ।
সম্মাননা গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত কনকচাঁপা তাঁর স্বামী সুরকার ও সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খানকে মঞ্চে ডাকেন। তিনি বলেন, ‘আমার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান তাঁর। এই সম্মান আসলে তাঁরই প্রাপ্য।’
অনুষ্ঠানে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘আমরা সব সময় শিল্পীদের চ্যানেল আই পরিবারের অংশ মনে করি। প্রয়াত আজম খানের “উচ্চারণ” ব্যান্ডটি প্রায় হারিয়ে যাচ্ছিল, আমরা তাদের আবার ফিরিয়ে এনেছি। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই তারা নতুনভাবে পথচলা শুরু করবে।’

এরপর একে একে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, লোকসংগীত, ব্যান্ড, সুরকার, গীতিকার থেকে শুরু করে মিউজিক ভিডিও—বিভিন্ন শাখায় স্বীকৃতি পান শিল্পীরা।
পারফরম্যান্সেও ছিল বৈচিত্র্য। মঞ্চে গান পরিবেশন করেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, খুরশীদ আলম ও রফিকুল আলম। পাশাপাশি সমকালীন শিল্পীদের পরিবেশনাও মাতিয়ে তোলে দর্শকদের। কোনাল, ইমরান মাহমুদুল, সিঁথি সাহা, ঝিলিক, লিজা ও লুইপার পরিবেশনায় মঞ্চ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। নাচ ও বিশেষ পরিবেশনাও ছিল বাড়তি আকর্ষণ; অপু বিশ্বাস ও আদর আজাদের উপস্থিতি বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে।

২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজন দুই দশক পেরিয়ে এবার আরও বড় পরিসরে হাজির হয় উত্তরবঙ্গে।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা
এবার আধুনিক গানে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়েছেন লিজা (খুব প্রিয় আমার), শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি), শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীত শিল্পী ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি), ইউটিউব থেকে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত আধুনিক গানে এঞ্জেল নূর (যদি আবার), আধুনিক গানে শ্রেষ্ঠ সুরকার বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে), আধুনিক গানের শ্রেষ্ঠ গীতিকার তারেক আনন্দ (প্রেমবতী ), এবং শাহনাজ কাজী ( মা), শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী বিউটি ( চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক), ইউটিউবে ১ লক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রপ্ত লোকসংগীত লটারির মাধ্যমে বিজয়ী শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা), শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা), ইউটিউবে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত ছায়াছবির গান দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল), ছায়াছবির গানে শ্রেষ্ঠ সুরকার শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা), ছায়াছবির গানে শ্রেষ্ঠ গীতিকার রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা), , শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীত শিল্পী শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে), শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো), শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী সভ্যতা (অধিকার) এবং শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি হিসেবে সম্মাননা পেয়েছে বেঙ্গল মিউজিক। বেঙ্গল মিউজিক এর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন লুভা নাহিদ চৌধুরী।এছাড়া এবার বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া এবার আধুনিক গানে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়েছেন লিজা (খুব প্রিয় আমার), শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি), শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীত শিল্পী ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি), ইউটিউব থেকে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত আধুনিক গানে এঞ্জেল নূর (যদি আবার), আধুনিক গানে শ্রেষ্ঠ সুরকার বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে), আধুনিক গানের শ্রেষ্ঠ গীতিকার তারেক আনন্দ (প্রেমবতী ), এবং শাহনাজ কাজী ( মা), শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী বিউটি ( চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক), ইউটিউবে ১ লক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রপ্ত লোকসংগীত লটারির মাধ্যমে বিজয়ী শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা), শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা), ইউটিউবে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত ছায়াছবির গান দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল), ছায়াছবির গানে শ্রেষ্ঠ সুরকার শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা), ছায়াছবির গানে শ্রেষ্ঠ গীতিকার রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা), , শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীত শিল্পী শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে), শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো), শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী সভ্যতা (অধিকার) এবং শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি হিসেবে সম্মাননা পেয়েছে বেঙ্গল মিউজিক। বেঙ্গল মিউজিক এর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন লুভা নাহিদ চৌধুরী।এছাড়া এবার বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া ।


আয়োজনের প্রকল্প পরিচালক রাজু আলীম বলেন, ‘এই আয়োজনকে আমরা শুধু পুরস্কার প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীত উৎসবে রূপ দিতে চেয়েছি। এখানে ৩০০ জনের বেশি শিল্পী অংশ নিয়েছেন, সব প্রজন্মের শিল্পীদের এক মঞ্চে আনার চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার বাইরে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন সম্ভব—বগুড়ায় এই আয়োজনের মাধ্যমে সেটিই দেখাতে চেয়েছি।’
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নীল হুরেজাহান ও অপু মাহফুজ। আর আয়োজনের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় ছিলেন ইফতেখার মুনিম।

No comments:

Post a Comment