বলিউডের আতঙ্ক কে এই লরেন্স বিষ্ণোই - অজানা ১০১
,

ব্রেকিং

Post Top Ad

PropellerAdsPropellerAds

Tuesday, October 20, 2026

বলিউডের আতঙ্ক কে এই লরেন্স বিষ্ণোই


<p>মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর পর আবার সামনে এসেছে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। অভিনেতার শরীরে গুলি লাগেনি, তবে তাঁর গাড়িচালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হামলার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়ানো বার্তায় শুধু টাইগারকে নিশানা করার দায়ই দাবি করা হয়নি, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে একটি হামলার তদন্তের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলিউডকে ঘিরে এই অপরাধী চক্রের তৎপরতা।</p><p>সোমবার রাজস্থানের কোটায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক একজনসহ তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। কোটার পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের একজন রেহানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের কথিত সহযোগী অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দায় স্বীকারের পোস্টটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। লরেন্স নিজে এ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কি না, সেটিও প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/bxwq1gbv7k">কানাডায় আবার গুলি! পাঞ্জাবি গায়কের বাসায় হামলার দায় নিল লরেন্স বিষ্ণোই চক্র</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-10-17/ua3l757m/Untitled-1.png" /><figcaption>নয়াদিল্লির একটি আদালতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিবেষ্টিত লরেন্স বিষ্ণোই। এপ্রিল ২০২৩</figcaption></figure><p><strong>পাঞ্জাবের গ্রাম থেকে অপরাধজগতে</strong><br>১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবে জন্ম লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। আবোহার এলাকায় শৈশব কাটিয়ে পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। ডিএভি কলেজে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে জড়ান। পরে গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে পরিচয় হয়। ছাত্ররাজনীতির সংঘাত থেকে ধীরে ধীরে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায়।<br>গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মধ্যেও অন্য অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন লরেন্স। কারাগারের বাইরের সহযোগীদের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছে তাঁর চক্র। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বহু অভিযোগ অবশ্য তিনি অস্বীকার করেছেন।<br>লরেন্স এখন গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধের কারণে তাঁকে কারাগারের বাইরে নেওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অন্য তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/6uxwz1el9m">সালমানের বাসভবনে গুলির মামলায় নতুন মোড়, আদালতে আনমোল বিষ্ণোই</a></aside><p><strong>সালমানের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত</strong><br>সালমানের প্রতি লরেন্সের বৈরিতার কেন্দ্রে রয়েছে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণীটিকে পবিত্র মনে করেন এবং বন্য প্রাণী রক্ষায় তাঁদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।<br>২০১৮ সালে ওই মামলায় সালমানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়; পরে তিনি জামিন পান। একই বছর প্রকাশ্যে অভিনেতাকে হত্যার হুমকি দেন লরেন্স। পরবর্তী সময়েও সালমানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। <br>২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলি চালান মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি বিষ্ণোই চক্রের নির্দেশে হয়েছিল। লরেন্সের ভাই আনমোলের নামে ছড়ানো বার্তায় ঘটনাটিকে ভবিষ্যৎ হামলার সতর্কসংকেত হিসেবে তুলে ধরা হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-05/326cb156-ac77-4614-b877-c5937a735020/247180982_172015368452182_1426493155588341325_n.jpg" /><figcaption>সিধু মুসে ওয়ালে</figcaption></figure><p><strong>গায়ক হত্যা থেকে বলিউড</strong><br>বিনোদনজগতে বিষ্ণোই চক্রের নাম বড়ভাবে আলোচনায় আসে ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যার পর। বিদেশ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করেন গোল্ডি ব্রার। ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলোও ওই হত্যাকাণ্ডে বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের অভিযুক্ত করে।<br>এরপর ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে খুন হন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিক। সালমানসহ বলিউডের বহু তারকার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। হত্যার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে দেওয়া পোস্টে সালমানকে সহায়তা করা ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সালমানের নিরাপত্তার প্রশ্নটি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নিরাপত্তার উদ্বেগেও বিস্তৃত হয়।<br>এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডার সারেতে কপিল শর্মার ক্যাফেতে একাধিকবার গুলি চালানো হয়। একটি হামলার দায় স্বীকারের সঙ্গে সালমানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির জুহুর বাড়িতে গুলির পরও বিষ্ণোইয়ের সহযোগী পরিচয়ে দায় স্বীকারের বার্তা আসে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-10-08/f2zl24v0/Salman-Khan.avif" /><figcaption>অভিনেতা সালমান খান। ২০১৮ সালে বিষ্ণোই নতুন করে আলোচনায় আসেন এই বলিউড তারকাকে হত্যার হুমকি দিয়ে</figcaption></figure><p><strong>আতঙ্কই কি প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার</strong><br>তারকাদের ওপর হামলা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকার—এই ধারায় শুধু হামলার শিকার ব্যক্তিকেই বার্তা দেওয়া হয় না। অন্যদের মধ্যেও ভয় ছড়িয়ে পড়ে। ‘হু কিলড মুসেওয়ালা?’ বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক জুপিন্দরজিৎ সিং আল–জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে এই পরিচিতি ও আতঙ্কের অর্থনৈতিক দিকটি তুলে ধরেছিলেন।<br>সিএনএনের অনুসন্ধানেও কারাগার থেকে যোগাযোগ, বিদেশে থাকা সহযোগী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে চক্র বিস্তারের অভিযোগ উঠে এসেছে। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগপত্রের বরাতে সেখানে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যদের মধ্যে তথ্য সীমিত রাখা হয়। ফলে একজন ধরা পড়লেও অন্যদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।<br><sup>সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস</sup>।</p>

No comments:

Post a Comment