
<p>একজন নারী একা বিদেশে যাচ্ছেন। হাতে বৈধ পাসপোর্ট, টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তবু ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাঁকে শুনতে হচ্ছে—কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন, স্বামী জানেন কি না, অভিভাবক সঙ্গে নেই কেন? কখনো স্বামীর ফোন নম্বর নিয়ে কর্মকর্তাই ফোন করে নিশ্চিত হচ্ছেন, কখনো পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীও পড়ছেন দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে।</p><p>সম্প্রতি নেপালে যাওয়ার সময় তিন অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ইমিগ্রেশন থেকে আটকে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর পুরোনো এই অভিজ্ঞতাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই তিন নারী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও কোনো আইনগত কারণ না দেখিয়ে তাঁদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হয়েছে।</p><p>শুধু ওই তিন নারী নন, একা বিদেশ যেতে গিয়ে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আরও অনেক নারীর। কেউ যাচ্ছিলেন কর্মশালায়, কেউ পারিবারিক অনুষ্ঠানে, কেউ পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ভ্রমণে। তাঁদের কারও বিদেশযাত্রা শেষ পর্যন্ত আটকে যায়নি। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রশ্নে বারবার সামনে এসেছে তাঁদের বৈবাহিক অবস্থা, স্বামীর অনুমতি ও অভিভাবকের উপস্থিতি।</p><h3>নেপাল যাওয়ার পথে তিন নারীকে থামানো হলো কেন</h3><p>নেপাল যাওয়ার পথে বাধার শিকার দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁর ওই তিন তরুণী বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকেননি। আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন কেন তাঁদের ভ্রমণ করতে দেওয়া হয়নি।</p><p>ওই তিন নারীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি শেষে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দিয়েছেন। তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।</p><blockquote>নেপাল যাওয়ার পথে বাধার শিকার দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁর ওই তিন তরুণী বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকেননি। আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন কেন তাঁদের ভ্রমণ করতে দেওয়া হয়নি।</blockquote><p>একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা অনুরূপ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চেয়েছেন আদালত।</p><p>রিট আবেদনকারী তিন নারীর ভাষ্য, ৮ আগস্ট সকাল ৯টায় তাঁরা নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। তাঁদের ফ্লাইট ছিল সকাল ১০টা ৫ মিনিটে। তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের কাছে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টিকিট ছিল।</p><p>তবু ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ তাঁদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের কোনো লিখিত নোটিশ বা আইনি কারণও জানানো হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন নারীর দাবি, তাঁদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতাও ছিল না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কিনা, মা–বাবা বা অভিভাবক সঙ্গে আছেন কি না, এসব বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।</p><aside><cite> —ইশরাত হাসান, আইনজীবী</cite>বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও ওই নারীদের কেন যেতে বাধা দেওয়া হলো, সেটিই মূল প্রশ্ন। তাঁর মতে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।</aside><p>আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও ওই নারীদের কেন যেতে বাধা দেওয়া হলো, সেটিই মূল প্রশ্ন। তাঁর মতে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।</p><p>ইশরাত হাসান জানান, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।</p><h3>মানব পাচার ঠেকাতে নজরদারি</h3><p>ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপারের (ইমিগ্রেশন অপারেশনস) সরকারি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে একজন ফোন ধরেন। তিনি নিজের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান।</p><p>পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ওই তিনটি মেয়ের আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন কেন ওই মেয়েরা হোটেল বুকিং দেখাতে পারেননি? কোন সেমিনারে যাচ্ছেন, সেটাও কেন বলতে পারেননি?’</p><aside><cite> —তানিয়া হক, অধ্যাপক, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</cite>ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে ওই নারীকে যেতে দেওয়া হয়নি, তা কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা উচিত। যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ না থাকে, তাহলে শুধু সন্দেহের বশে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।</aside><p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের রুট হিসেবে নেপালকে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন সতর্কতা বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হয়েছে। নেপালে অন অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ থাকায় বিমানবন্দরে কাগজপত্র পরীক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।</p><p>কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো কাগজপত্র সন্দেহজনক মনে হলে যাত্রীকে আটকে দেওয়া হয়। ওই তিন নারী সেমিনারে যাওয়ার কথা বললেও কোনো আমন্ত্রণপত্র দেখাতে পারেননি বলেও দাবি তাঁদের।</p><p>তবে পুলিশের সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।</p><h3>‘একা নারী গেলেই কেন এত সন্দেহ?’</h3><p>তিন নারীর ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন একটি সংস্থায় কর্মরত জেন্ডার বিশ্লেষক সাবিনা পারভীন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, বিমানবন্দরে তিন নারীকে ইমিগ্রেশন বাধা দেওয়ার ঘটনায় অনেকে অবাক হয়েছেন। কিন্তু তাঁর নিজের মতো অনেক নারীকে জীবনে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা সংবাদে আসেনি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁরা তা প্রকাশ করেননি।</p><p>গত বছরের নভেম্বরে একটি বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা নেপাল যাচ্ছিলেন বলে জানান সাবিনা পারভীন। পরিবারের বাইরে তাঁর বোনের এক বন্ধু, ৫২ বছর বয়সী একজন নারীও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ওই নারীকে আটকে দেন। কারণ, তিনি ওই পরিবারের সদস্য নন। পরে তাঁকে আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।</p><aside><cite> —ফেরদৌস আরা রুমী, এনপিএর মুখপাত্র ও অধিকারকর্মী</cite>নারীর স্বাধীন সত্তাকে অস্বীকার করার প্রবণতা এবং নারী সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা থেকে এ ধরনের আচরণ হতে পারে। পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে বেড়ে ওঠার কারণে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অনেক সময় এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক মনে করেন।</aside><p>সাবিনা পারভীনের ভাষ্য, কর্মকর্তারা মনে করছিলেন, একা যাওয়া নারী পাচারের শিকার হতে পারেন। দীর্ঘ সময় তর্কের পর ওই নারী পাসপোর্ট ফেরত পান।</p><p>সাবিনা প্রথম আলোকে বলেন, নারীকে পুরুষের অধীনস্থ হিসেবে দেখার প্রবণতা সমাজে রয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাও সেই সমাজেরই অংশ। তাঁর মতে, একজন নারী যখন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে চলাফেরা করেন, তখন সেটিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার বদলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা যায়।</p><p>সাবিনা পারভীনের ভাষ্য, ‘পাচার একটা অজুহাত সাধারণত পাচারকারীদের ধরতে এত তৎপরতা দেখা যায় না। একা কোনো নারী বিদেশ যাচ্ছে, এটা দেখলেই তাঁদের গা জ্বলে।’</p><h3>‘আপনার স্বামী জানেন?’</h3><p>রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) মুখপাত্র ও অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমীর অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, কয়েক বছর আগে সাত দিনের একটি কর্মশালায় যোগ দিতে তাঁরা পাঁচ নারী নেপাল যাচ্ছিলেন। তাঁরা পাঁচটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ছিলেন। সবার কাছেই কর্মশালার আমন্ত্রণপত্র ছিল। চারজন ইমিগ্রেশন পার হয়ে গেলেও একজনকে আটকে দেওয়া হয়। নানা প্রশ্নের পর তাঁকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসা করেন, তিনি যে সাত দিনের জন্য নেপাল যাচ্ছেন, তা তাঁর স্বামী জানেন কি না।</p><p>ওই নারী হ্যাঁ বলার পরও প্রশ্ন শেষ হয়নি। তাঁর কাছ থেকে স্বামীর ফোন নম্বর নেওয়া হয়। পরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা নিজের ব্যবহৃত ফোন থেকে তাঁর স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন ফেরদৌস আরা।</p><p>ফেরদৌস আরা রুমী নিজেও একবার একা বিদেশ যাওয়ার সময় প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। পাসপোর্টে সিল দিতে দিতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনার স্বামীকে নিয়ে গেলেন না!’</p><p>ফেরদৌস আরা রুমী প্রথম আলোকে বলেন, নারীর স্বাধীন সত্তাকে অস্বীকার করার প্রবণতা এবং নারী সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা থেকে এ ধরনের আচরণ হতে পারে। পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে বেড়ে ওঠার কারণে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অনেক সময় এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক ভাবেন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, একা নারী কোথাও যাচ্ছে মানেই ওই নারীর চরিত্র খারাপ এমন মনোভাব পোষণ করা হয়। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, নেপাল এসব দেশে যাচ্ছে শুনলে বেশি সন্দেহ করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/6c3oa0rcl5">অবিবাহিত নারী বিদেশে গেলে পুলিশের কী সমস্যা</a></aside><h3>সাংবাদিক পরিচয়, আগের ভ্রমণ—তারপরও প্রশ্ন</h3><p>ইমিগ্রেশনে একা নারীকে নানা প্রশ্ন করার অভিজ্ঞতা থেকে বাদ যাননি এই প্রতিবেদকও। ২৩ বছর আগে সাংবাদিকতা শুরু করার পর তিনি পাসপোর্ট করেন। পাসপোর্টে পেশা সাংবাদিকতা উল্লেখ করা আছে। প্রায় ১৪ বছর আগে একটি প্রতিযোগিতায় প্রিন্ট শ্রেণিতে তাঁর একটি প্রতিবেদন প্রথম হয়। পুরস্কার হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে যাওয়ার টিকিট পান তিনি। সেখানে আত্মীয় থাকায় তাঁদের বাসায় ওঠার সিদ্ধান্ত নেন এই প্রতিবেদক।</p><p>ফ্লাইট ছিল ভোরে। তাই মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে ইমিগ্রেশনের মুখোমুখি হন তিনি। তাঁর পাসপোর্ট বারবার উল্টেপাল্টে দেখছিলেন কর্মকর্তা। সাংবাদিক পরিচয়, বিবাহিত হওয়ার তথ্য এবং আগের বিদেশভ্রমণের সিল—সবই ছিল পাসপোর্টে। তারপরও আবুধাবি যাওয়ার কারণ নিয়ে তাঁকে একের পর এক প্রশ্ন করা হচ্ছিল।</p><p>যাত্রার কারণ জানানোর পরও কর্মকর্তার সন্দেহ কাটেনি। একপর্যায়ে আবুধাবিতে থাকা আত্মীয়কে ফোন করতে বলেন তিনি। তখন সেখানে সম্ভবত রাত তিনটা। এত রাতে আত্মীয়দের ঘুম ভাঙাতে ইতস্তত করছিলেন এই প্রতিবেদক। কিন্তু কর্মকর্তার অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত ফোন করে আত্মীয়কে তাঁর সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে হয়।</p><p>শেষ পর্যন্ত আবুধাবি যাওয়া হয়েছিল তাঁর। তবে সেই মধ্যরাতের ইমিগ্রেশন জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন মনে ছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/20f0958fnf">অবিবাহিত নারী বিদেশে যেতে পারবেন না—এমন আইন বা নিয়ম কোথায় আছে</a></aside><h3>‘কারণ অনুসন্ধান ও জবাবদিহি প্রয়োজন’</h3><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক মনে করেন, তিন নারীকে কেন বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি, তার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।</p><p>তানিয়া হক প্রথম আলোকে বলেন, ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি, তা কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা উচিত। যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ না থাকে, তাহলে শুধু সন্দেহের বশে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।</p><p>এ ঘটনায় যদি কারও দায়িত্বে গাফিলতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তানিয়া হক।</p><p>তিন নারীর ঘটনা নিয়ে আদালতের প্রশ্নের পাশাপাশি একা বিদেশ যেতে গিয়ে অন্য নারীদেরও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে এসেছে। মানব পাচার ঠেকাতে যাচাই-বাছাই জরুরি, কিন্তু সেই যাচাইয়ের নামে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা, স্বামীর অনুমতি বা অভিভাবকের উপস্থিতির ভিত্তিতে আলাদা করে সন্দেহের মুখে পড়তে হবে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।</p>

No comments:
Post a Comment