মুসলিমবিরোধী স্লোগানের জবাবে ইয়ামাল বললেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’ - অজানা ১০১
,

ব্রেকিং

Post Top Ad

PropellerAdsPropellerAds

Friday, April 03, 2026

মুসলিমবিরোধী স্লোগানের জবাবে ইয়ামাল বললেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’


বিশ্বকাপ সামনে রেখে পরশু রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্র এখন ভিন্ন এক বিতর্ক। এই ম্যাচে মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এমন আচরণকে ‘অসম্মানজনক ও অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

বার্সেলোনায় আরসিডিই স্টেডিয়ামে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসর ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। স্লোগানগুলো সরাসরি ইয়ামালকে লক্ষ্য করে না হলেও তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবেই নিয়েছেন। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে কড়া প্রতিক্রিয়াও জানান ইয়ামাল।

ইয়ামাল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে “তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম”—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

ইয়ামাল আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নয়। কিন্তু যারা এ ধরনের স্লোগান দেয়, তাদের বলব—স্টেডিয়ামের ভেতরে অন্যদের নিয়ে উপহাস করতে ধর্মকে ব্যবহার করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী আচরণ।’

ইয়ামাল যোগ করেন, ‘ফুটবল উপভোগ করার জন্য, নিজের দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য। অন্যের পরিচয় বা বিশ্বাসকে অসম্মান করার জন্য নয়।’

বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের বাবা মরোক্কান, আর মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির। মরক্কোর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই তিনি স্পেনের হয়ে খেলছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইয়ামাল স্পেন দলের অন্যতম তারকা। ইউরো ২০২৪ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর এবং এ গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও দলের বড় ভরসা তিনি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান। তিনি লেখেন, ‘মুষ্টিমেয় অসভ্য লোকের আচরণে স্পেনকে আমরা কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না। স্পেন একটি বহুত্ববাদী ও সহনশীল দেশ। ’

স্পেনের আইনমন্ত্রী ফেলিক্স বোলানিওস বলেন, ‘বর্ণবাদী গালি ও স্লোগান আমাদের লজ্জায় ফেলে। উগ্র ডানপন্থীরা তাদের ঘৃণা ছড়াতে কোনো জায়গা ফাঁকা রাখবে না। আর যারা আজ নীরব থাকবে, তারা এর সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবে।’

স্পেন–মিসর ম্যাচের একটি মুহূর্ত

মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে কিছু দর্শকের ‘অত্যন্ত ঘৃণিত ও বর্ণবাদী আচরণের’ নিন্দা জানিয়েছে।

কাতালুনিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী বার্নি আলভারেজ এ ঘটনায় ইয়ামালকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই যা হয়েছে, তা ইয়ামালকে প্রভাবিত করেছে। আমরা তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করব। এ ঘটনা নিন্দনীয়। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি বড় ধরনের পশ্চাৎপদতার ইঙ্গিতও।’

বার্নি আলভারেজ আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে সবকিছু পরিকল্পিতভাবেই হয়েছে। যারা স্লোগান দিয়েছে, তারা যেন ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াতেই মাঠে এসেছিল। তাদের অনেকেরই খেলাধুলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।’

এদিকে বার্সেলোনার স্থানীয় পুলিশ বাহিনী মোসোস দ’এস্কুয়াদ্রা বুধবার জানিয়েছে, স্পেন–মিসর ম্যাচে ‘ইসলামবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী স্লোগান’ নিয়ে তারা তদন্ত করছে।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, ফিফাও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

No comments:

Post a Comment