
<p>পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা অনীক দত্ত মারা গেছেন। ২২ মে ছিল তাঁর জন্মদিন। তার দিন পাঁচেক বাদেই যে তিনি চলে যাবেন, স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি অনীকের বন্ধু ও সহকর্মীরা। আজ বুধবার দুপুরে পরিচালকের মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া! যে মানুষ কোনো দিন আপস করেননি, যিনি শিরদাঁড়া নোয়ানোর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না, এমনকি যাঁর রসবোধকে বন্ধু-সহকর্মীরাও ঈর্ষা করতেন, সেই মানুষের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না সিনেদুনিয়া থেকে রাজনৈতিক ময়দানের পরিচালক-ঘনিষ্ঠজনেরা।</p><p>ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে এমন রহস্যজনক মৃত্যু! এভাবে কি অনীক দত্তর চলে যাওয়া মানায়? হাসপাতালে দাঁড়িয়ে তারকাদের মুখে একটাই কথা! রুদ্রনীল ঘোষ বললেন, ‘অনীকদা এমন একটা মানুষ ছিলেন যাঁর সঙ্গে তর্ক-ঝগড়া করার পরও মনে একটা শান্তি আসত। অনীকদা একজনই। বন্ধুবান্ধব, পরিবার-স্বজনদের জন্য তো বটেই, পাশাপাশি এটা সিনেমাজগতের জন্যেও এক অপূরণীয় ক্ষতি। ওঁর পরিজন, অনুরাগী, সকলের জন্য সমবেদনা রইল। অনীকদা নিজস্বতায় বাঁচতেন। আপসের রাস্তায় কোনো দিন হাঁটেননি। যে ধারায় তিনি গিয়েছেন, উনি বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন। আমি অনীকদার সঙ্গে বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছি। বিজ্ঞাপনের দুনিয়া থেকেই তিনি খ্যাতি পান। এরপর সিনেমাজগতে প্রবেশ। “ভূতের ভবিষ্যৎ”, “অপরাজিত”। অনীকদা আদতেই অপরাজিত একজন মানুষ।’</p><p>শেষ সাক্ষাতে কী কথা হয়েছিল পরিচালকের সঙ্গে? সে কথাও তুলে ধরলেন শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা। রুদ্রনীলের মন্তব্য, ‘কোনো দিনই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে মনে হয়নি। শেষবার মাস দেড়েক আগে একটা প্রিমিয়ারে যখন কথা হলো, বললাম, তোমার শরীরটা কেমন একটা দেখাচ্ছে! উনি বললেন, ঠিক জুতসই মনে হচ্ছে না। খুব অল্প সময়ের জন্যেই এসেছিলেন। শরীর খারাপ থাকায় তাড়াতাড়ি চলেও যান সেদিন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? পুলিশি তদন্তে নিশ্চয়ই উঠে আসবে। তবে আমার খবরটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না এখনো।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-05/26cbb1a9-6d76-4bec-a2b9-c0a7f0caac83/MV5BMDljNmIyNDYtOWQzNC00YmYwLWI3ZGEtMzU5NmU3MmZjNjg4XkEyXkFqcGdeQXVyNjA3OTI5MjA___V1_.jpg" /><figcaption> ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির পোস্টার। আইএমডিবি </figcaption></figure><p>পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। মানুষ চলে যায় ঠিকই কিন্তু অনীকদার মতো এমন রাজকীয় রসবোধ যাঁর, এত ভালো সেন্স অব হিউমার, তাঁর এভাবে চলে যাওয়া কেউ মানতে পারছি না। যে চলে গেছে, তাঁকে তো আটকাতে পারবেন না, কিন্তু মিডিয়ার কাছে আমার অনুরোধ, অনীককে ওঁর কাজের মধ্য দিয়েই উদ্যাপন করুন। অনীক দত্তকে রিপ্লেস করা সম্ভব নয়। কারণ, ওঁর মতো রসবোধ আমাদের কারও নেই।’</p><p>অনীকের প্রয়াণে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন। ফিল্ম জগতের বিরাট ক্ষতি। এই ঘটনা মেনে নিতে পারছি না। এই মুহূর্তে এর চেয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আর। সিনেদুনিয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন জগতেরও অপূরণীয় ক্ষতি অনীকের চলে যাওয়াটা।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tollywood/kw4lm9uegu">ছাদ থেকে পড়ে পরিচালকের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, মিলল সুইসাইড নোট</a></aside><p>প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান যিনি প্রথম থেকেই অনীক দত্তর সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন, তাঁর কথায়, ‘অনীক দত্তর চলে যাওয়া ক্রিয়েটিভ ফিল্ডের ক্ষতি। উনি একেকটা সিনেমা ২ থেকে ৩ বছর সময় নিয়ে বানাতেন। কাজে কখনো ফাঁকি দিতেন না। খানিক খামখেয়ালি ছিলেন বটে। সে কথা আমরা সকলেই জানতাম। কিন্তু তার জন্য যে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা অকল্পনীয়। এই তো ২১ তারিখ পরবর্তী ছবি “অপরাজিত ২”-এর প্রি প্রোডাকশন মিটিং করলাম প্রায় দুঘণ্টা ধরে বসে। ২২ তারিখ ছিল ওঁর জন্মদিন। সেদিনও কথা হলো। গত পরশুই আমাকে একটা কনসেপ্ট নোট পাঠিয়ে জানতে চাইলেন, কেমন হয়েছে? সেখানে এমন আকস্মিকভাবে চলে যাওয়াটা অপ্রত্যাশিত।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-27/idljts51/1779871995anik-lead-jpg-1.jpeg" /><figcaption>অনীক দত্ত। ফেসবুক থেকে </figcaption></figure><p>‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির চিত্রনাট্যকার, উৎসব মুখোপাধ্যায় যিনি নিজে দিন কয়েক আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন, অনীকের মৃত্যুর খবরে তিনিও হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। বললেন, ‘পরশু রাতেই কনসেপ্ট নোট নিয়ে আমাদের আলোচনা হলো। হাসানদাকেও সেটা পাঠালেন। সেদিনও ওকে মানসিক আবসাদে রয়েছেন বলে মনে হয়নি। এতটাই স্বাভাবিক যে নিজেই আমার পাঠানো নোটে কিছু কারেকশন করে দিলেন। একদম সূক্ষ্ম, সুস্থ মাথা, যে অনীকদাকে আমি ২০০৭ সাল থেকে চিনি।’</p><p>অনীকের প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। পরিচালকের আত্মঘাতী হওয়ার খবরে অভিনেত্রীর মন্তব্য, ‘তুমি তো শেষ হাসি হাসছিলে! কী উদাহরণ তৈরি করলে তোমার অনুরাগীদের জন্য? কমরেড, এটা একদম ঠিক করলে না আমাদের সঙ্গে। মেনে নিতে পারছি না। আমি আবার অভিভাবকহারা হলাম। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার একমাত্র বন্ধু তথা শুভাকাঙ্ক্ষীকে হারিয়ে ফেললাম।’</p><p><sup>সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে</sup></p>

No comments:
Post a Comment